আগামী দিনের প্রযুক্তি নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণার অন্ত নেই। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহ বরং এক ধরনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তাদের মাঝে সৃজনশীল উদ্দীপনা অব্যাহত রয়েছে। আর প্রযুক্তির বিকাশ মানব সভ্যতাকে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক নতুন দিগন্তের সূচনায়। বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা ক্রমশঃ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। তাছাড়া এ ধরনের প্রযুক্তির চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এ ধরনের সাশ্রয়ী প্রযুক্তি আমাদের দেশে সৌভাগ্যের দ্বার খুলে দিতে পারে। সেই প্রযুক্তিকে আমরা তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছি।
কৃষিতে সাশ্রয়ী প্রযুক্তি
আমাদের দেশে ঘর-গৃহস্থালী থেকে শুরু করে পানি ও স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানী শক্তি, কৃষি ও যন্ত্রপাতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা লক্ষ্য করা গেছে। এই ধরনের সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
- বায়োগ্যাস প্রযুক্তি- এই প্রযুক্তি ক্ষুদ্র ও মাঝারি পরিসরে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষত গৃহস্থালী কাজের জন্য অর্থাৎ রান্না ও বৈদ্যুতিক কাজে বায়োগ্যাস প্রযুক্তি অনন্য। এই প্রযুক্তি অর্থনৈতিকভাবে অনেক সাশ্রয়ী অর্থাৎ কম খরচে অধিক লাভবান হওয়া যায়। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব বটে!
- রি-সাইকেল প্রযুক্তি- রি-সাইকেল এমন একটি প্রযুক্তি যা পুনরায় ব্যবহার করা যায়। যেমন বায়োগ্যাস প্রযুক্তিতে পরিবেশের মারাত্নক কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসে না। বরং এর সাথে মাটির উর্বরতার বিষয়টি সম্পৃক্ত। অর্থাৎ রি-সাইকেল প্রযুক্তিতে এই ক্ষেত্রে জৈব সার উৎপাদন করা যায়।
- সৌর বিদ্যুৎ প্রযুক্তি- সূর্যের আলো এই বিদ্যুৎ প্রযুক্তির একমাত্র উপাদান। এই প্রযুক্তি অনেক সাশ্রয়ী। এটি পরিবেশের জন্য কোনো ঝুঁকির কারণ নয়। অফুরন্ত উৎস এই প্রযুক্তির অন্যতম বাহন।
- আর্সেনিকমুক্ত পানি প্রযুক্তি- এই প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর কৃতিত্ব উল্লেখ করার মতো, সারা বিশ্বে যা ব্যাপকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই বিজ্ঞানীদ্বয় হচ্ছেন ডক্টর আবুল হুসসাম এবং ডক্টর আবুল মনির। বাংলাদেশের এই দুজন বিজ্ঞানী পানি থেকে আর্সেনিক মুক্ত করার জন্য আবিষ্কার করেন সাশ্রয়ী সনো ফিল্টার।
- খামারজাত সার তৈরি প্রযুক্তি- পশু-প্রাণীর বর্জ্য থেকে বিশেষত গোবর এই সারের মূল উপাদান। তবে তা সুষমায়ন করতে হয়।
- আবর্জনা পঁচা সার প্রযুক্তি- প্রতিদিনের আবর্জনা থেকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সার উৎপাদন করা হয়।
- কম্পোস্ট সার তৈরি প্রযুক্তি- আবর্জনা পঁচা সার ও এর উপাদান একই। তবে এর উপাদান স্তরে স্তরে সাজিয়ে একটি ভিন্ন প্রক্রিয়ায় এই সার তৈরি হয়। এটি বরং পরিবেশের জন্য সহায়ক।
বিদ্যুতে সাশ্রয়ী প্রযুক্তি
আমাদের দেশে বিদ্যুতে সাশ্রয়ী প্রযুক্তি বরং বিকল্প উৎস হতে পারে। এ ধরনের প্রযুক্তি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সৌর বিদ্যুৎ- আমাদের দেশে সৌর শক্তি প্রায় সময়ই লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে বছরে গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ দিন সূর্যালোক থাকে। প্রতিদিন প্রায় ৫ কিলোওয়াট ঘন্টা শক্তি এদেশের প্রতি বর্গমিটার জমিতে আছড়ে পড়ছে। আর ভূপতিত এই সৌরশক্তিকে সঠিকভাবে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদার একটা বড় অংশ মিটিয়ে ফেলা সম্ভব। উল্লেখ্য, সোলার পাওয়ার একটি নবায়নযোগ্য উৎস। ফলে এখানে বিকল্প বিদ্যুৎ হিসেবে সোলার প্লান্ট কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে। একটি সোলার প্লান্টে প্রাথমিক বিনিয়োগ অনেক বেশি মনে হলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ন্যূনতম কিছু খরচ ছাড়া আর তেমন খরচ হয় না। এই প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বড় সুবিধা, মাসিক কোনো বিল দিতে হচ্ছে না। এই সোলার প্লান্টের সবচেয়ে বড় বাধা এর প্রাথমিক বিনিয়োগ। সেক্ষেত্রে এর ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক প্লান্ট স্থাপনে এবং স্থানীয় মার্কেটে এর আনুষাঙ্গিক যন্ত্রসমূহ তৈরির মাধ্যমে এই বিনিয়োগ কমে যেতে পারে অনেকাংশেই। বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে তাদের গবেষণা ও প্রসার অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণত আমাদের দেশের যেসব এলাকায় অর্থাৎ প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ এখনো পৌঁছেনি সেখানে সৌর শক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে প্রায় ৪০ লাখের মতো মানুষ সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এসব এলাকার স্বচ্ছল পরিবারের মানুষ এ প্রযুক্তির সুবিধা নিচ্ছেন।
- উইন্ড পাওয়ার প্লান্ট- বাতাসের শক্তিকে একটি সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। আর তা করা যায় উইন্ড পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের দ্বারা। আমাদের দেশের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ১০০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে উইন্ড পাওয়ার প্লান্ট বা বায়ুশক্তি চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এটিও একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সহায়ক হিসেবে কাজে লাগতে পারে। বায়ু শক্তি চালিত টারবাইন দ্বারা যথেষ্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বিভিন্ন দেশে এ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। আমাদের দেশে গত ২ বছর আগে একটি তৎপরতা নেওয়া হয়েছিল। তা হচ্ছে পিডিবি এর ব্যবস্থাপনায় কুতুবদিয়ায় পাইলট প্রকল্পের অধীনে একটি উইন্ডমিল তৈরি করা হয়েছিল যার উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১ মেগাওয়াট। সমুদ্রের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অফশোর উইন্ডমিল বানানো এবং রক্ষণাবেক্ষণ ভূমিতে বানানো উইন্ডমিলের চাইতে ব্যয়বহুল হলেও এটি হবে জোরালো এবং সব সময় বাতাসের উৎস থাকায় উৎপাদন বেড়ে যাবে অনেকাংশে। তাছাড়া এ ধরনের উইন্ডমিল আকারে বড় হবে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, ডেনমার্ক, হল্যান্ড এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে শক্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিক থেকে অনেক অগ্রসরমান। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ যেমন নেপাল, ভারতে এ ধরনের উইন্ডমিল স্থাপন করা হচ্ছে।
গাড়ীতে জ্বালানী সাশ্রয়ী প্রযুক্তি
গাড়ীতে সাশ্রয়ী প্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এতে জ্বালানী খরচ কম। সাম্প্রতিককালে নির্মিত গাড়ীতে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। যেমন জার্মান সরকার সেদেশে ২০২০ সাল নাগাদ দশ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। অবশ্য পরিবেশবাদীরা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে। হাইব্রিড গাড়ি এটিও জ্বালানীবান্ধব। এতে জ্বালানি দিয়ে গাড়ী চালু করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাটারি চার্জ হয়। এতে উচ্চ টর্ক সম্পন্ন বৈদ্যুতিক মোটর ইঞ্জিনে গাড়ি চলতে থাকে। এতে জ্বালানির সাশ্রয় ঘটে। কোনো কারণে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলেও এ ব্যাটারির সহায়তা গাড়ি চালানো যায়।বিজ্ঞানীরা এ ধরনের আরো জ্বালানী সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সন্ধানে এগিয়ে চলেছেন।
সাশ্রয়ী প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক বাতি
কমপ্যাক্ট ফ্লোরোসেন্ট ল্যাম্প সংক্ষেপে সিএফএল এক ধরনের প্রযুক্তি। বৈদ্যুতিক বাতিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে বিদ্যুত সাশ্রয় করা যায়। এতে একই সময়ে কম বিদ্যুত লাগে এবং সেই কম বিদ্যুত থেকে অধিক আলো বিকিরণ করে। এ ধরনের প্রযুক্তির সহায়তায় বৈদ্যুতিক বাতিতে প্রায় ৯ থেকে ১০ আলো দিতে সক্ষম। এ প্রেক্ষিতে আমাদের দেশে সিএফএল বাতি ব্যবহার বাড়ানো দরকার। তাতে করে যথেষ্ট বিদ্যুত সাশ্রয় ঘটবে। তাছাড়া এটি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। উল্লেখ্য, সাধারণ বাতির ক্ষেত্রে মোট বিদ্যুতের মাত্র ৫ ভাগ আলোতে রূপান্তিরত হয়। অথচ বাকি ৯৫ ভাগ বিদ্যুত তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে সাধারণ বাতি পরিবেশের জন্য সহায়ক নয়। এতে বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে ছড়াতে থাকে। একারণে এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহারে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
সিআরটির বদলে সাশ্রয়ী প্রযুক্তির এলসিডি মনিটর
বাজারে এখন সিআরটি জাতীয় কোনো মনিটর নেই বললেই। তার বদলে ডেস্কে শোভা পাচ্ছে নতুন প্রযুক্তির এলসিডি মনিটর। এতে রয়েছে এক ধরনের সাশ্রয়ী প্রযুক্তি। এতে বিদ্যুত খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাছাড়া এসব মনিটরের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অত্যন্ত অল্প পরিসরে মনিটর রাখা যায়।
সৌর প্রযুক্তির লাইটিং উদ্ভাবন
২০০৮ সালের ঘটনা। প্রথম আলোতে নিউজটি এসেছিল। তোফায়েল আহমেদ, তিনি সে সময় একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালক (অপারেশন) পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি একটি লাইটিং সিস্টেম উদ্ভাবন করেন যা দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় “ওয়ার্ল্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ২০০৮’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থাপনের জন্য মনোনিত হয়েছিল। এই সিস্টেমে দরকার ব্লাব, একটি সোলার প্যানেল এবং দুটি রিচার্জেবল ব্যাটারি। সূর্যের আলো থেকে এই ব্যাটারি রিচার্জ হতো এবং সেই ব্যাটারির মাধ্যমে রাতে দুটি লাইট হ্যারিকেনের তুলনায় ২০গুণ আলো দিতে পারে। এটি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির একটি লাইটিং সিস্টেম।
সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কৃষি যন্ত্রপাতি
দেশে তৈরি হচ্ছে সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কৃষি যন্ত্রপাতি। সম্প্রতি ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একাধিক সাশ্রয়ী কৃষি যন্ত্র আবিষ্কারের দাবীদার একজন কৃষক। আসলে প্রয়োজনীয় অর্থ ও সহযোগীতার অভাবে আমাদের দেশে স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বিকশিত হতে পারে। এজন্য সরকারের উচিত, সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কৃষি যন্ত্রপাতি সহ অন্যান্য প্রযুক্তি বিকাশে এগিয়ে আসা। তবেই আমরা উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবো।
ঘাস কাটার যন্ত্র
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠান একটি নতুন ধরনের ঘাস কাটার যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে। এই যন্ত্রটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পার্ক, স্কুল, কলেজ, আধুনিক ভবন, অবকাশ কেন্দ্র, পার্ক, হোটেল-মোটেলের আঙিনা, প্রবেশপথ এবং রাস্তার দুধারের ঘাস কাটার জন্য বেশ উপযোগী। প্রচলিত ঘাস কাটার যন্ত্রের চেয়ে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি ঘাষ কাটতে সক্ষম। এটি দামে সস্তা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী।
ড্রাম সিডার পদ্ধতি
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ধানচাষের খরচ কমানোর লক্ষ্যে উদ্ভাবন করেছে ড্রাম সিডার পদ্ধতি। এতে কাদাময় জমিতে ড্রাম সিডার দিয়ে সারি করে সরাসরি বীজ বপন ধানচাষের একটি সহজ প্রযুক্তি। এটি ধান চাষের একটি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি। তথ্য অনুযায়ী, যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চাষাবাদে প্রায় ২০ ভাগ বীজ কম লাগে, ৩০ ভাগ সময় সাশ্রয় হয় এবং ১৫ থেকে ২০ ভাগ শ্রমিক কম লাগে।
শিমুর শক্তি বাক্স
শিমসন সাহা (৫৬) যাকে শিমু নামেই সবাই চেনে। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নারকেলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা নিজের উদ্ভাবিত যন্ত্রের নাম দিয়েছেন ‘মেকানিক্যাল পাওয়ার বক্স’। একে সহজ ভাষায় বলা যায় ‘শক্তির বাক্স’। এই যন্ত্র সেচযন্ত্রের মোটরের সঙ্গে জুড়ে দিলে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায় শক্তি। ফলে অল্প সময়ে জমিতে অনেক বেশি সেচ দেওয়া যায়। এতে বিদ্যুৎ-চালিত মোটরের ক্ষেত্রে যেমন লোডশেডিংয়ে বিড়ম্বনা থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া যায়, তেমনি জ্বলানিচালিত মোটরের ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ গুণ জ্বালানি সাশ্রয় হয়। ধান ভানার কলে মোটরের সঙ্গে এই যন্ত্র জুড়ে দিলে অল্প সময়েই অনেক ধান ভানা যায়।
কৃষিতে এ ধরনের আরো প্রযুক্তি রয়েছে। এইসব প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে খরচ কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো।
আমাদের দেশের জন্য চাই সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি আমাদের জন্য সহজে কার্যকর হয়ে ওঠবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ কারণেই বিভিন্ন ধরনের সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নিয়ে আমাদের উপরোক্ত আলোচনার সূত্রপাত।
-সাদ আব্দুল ওয়ালী
প্রথম প্রকাশঃ মাসিক টেকনোলজি টুডে
জানুয়ারী ২০১১

1 মন্তব্যসমূহ
Valuable information.
উত্তরমুছুন